শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

তারেক রহমান

রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৭

রাজশাহীতে আইটি পার্ক সচল করে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রকল্প সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

তারেক রহমান বেলা ২টা ৩০ মিনিটে জনসভায় ভাষণ শুরু করেন। নির্বাচনী জনসভা হলেও ভিন্নভাবে কথা বলতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমি অন্য দলের সমালোচনা করতে আসিনি। আমি বলতে চাই জনগণের কথা, এলাকার মানুষের উপকার হয়-এমন কথাই আজ বলব। অন্যের সমালোচনা করে কি জনগণের লাভ হবে? হবে না।’ দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মার সম্পর্ক’ রয়েছে। তখন নিচ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকের করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দ জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সঞ্চলনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাফজুর রহমান। আজ সকাল ১০ থেকে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সোয়া ১টার দিকে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর দরগা শরিফে যান। পৌনে ২টার দিকে তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় আসেন। স্থানটি স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান হিসেবে পরিচিত।

রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের একাংশ
রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের একাংশছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

তারেক রহমান জনসভায় বলেন, ‘২০০৪ সালে আমি রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছিলাম। শীতের সময় কম্বল বিতরণ করেছি, গরমের সময় নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ছাগল বিতরণ করেছি। সেই থেকেই রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়ে গেছে।’

কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’ এ কথা বলার পরে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে উত্তর জানতে চান, এতে চলবে? তখন সবাই তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে সংসারের ন্যূনতম ব্যয় সামাল দিতে পারেন। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহীতে আইটি পার্ক থাকলেও তা কার্যত অচল। আমরা আইটি পার্ক সচল করব, প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলব। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন,‘দেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের ভেতরেই থাকবে।’

বিএনপির প্রার্থীদের হাতে দলের প্রতীক ধানের শীষ তুলে দেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মঞ্চের পাশে জুলাই আন্দোলনে আহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে সেই পরিবর্তন যেতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে, দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’ গত ১৬- ১৭ বছরে ভোটাধিকার হরণ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিশিরাতের নির্বাচন, গায়েবি নির্বাচন আমরা দেখেছি। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র থাকলেই জনগণের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।। আমরা ধর্ম নয়, মানুষ দেখি।  ১৯৭১ সালে আপনারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তখন ধর্ম দেখি নাই। এখন দেশ গড়ার সময় আমরা আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর