প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১৭
২০২৫ সালে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১৭৬ জন, নিহতের ৮০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, নারী রয়েছেন ২৫ জন, ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং শিশু ১৮ জন, যা ৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩ শতাংশ, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮ শতাংশ।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভোরে ১১.২৪ শতাংশ, সকালে ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ ও রাতে ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
যানবাহনগুলোর মধ্যে বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।
দুর্ঘটনার সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে।
দুর্ঘটনা রাতে এবং সকালে বেশি ঘটছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এ ছাড়া যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।
বেশ কয়েকটি কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংগঠনটি। পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
১. মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন
২. যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল
৩. যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক
৪. একই সড়কে বহু গতির যানবাহন
৫. ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা
৬. ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া এবং ব্যবহার উপযোগী না থাকা
৭. সড়কে সঠিক নিয়মে সাইন/মার্কিং না থাকা
৮. সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা
৯. সড়কে ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।
সুপারিশসমূহ
১. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে
২. মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে
৩. বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা করতে হবে
৪. রাজধানীর ভেতরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে
৫. উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
৬. বাস সার্ভিস উন্নত ও বিস্তৃত করতে হবে
৭. যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে
৯. বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে
১০. হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে
১১. রাজধানীর ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে
১২. রাজধানীর পাশ দিয়ে বাইপাস রোড নির্মাণ করতে হবে
১৩. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে
১৪. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
মন্তব্য করুন: