শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

খাসোগি হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে ট্রাম্পের তীব্র কটূক্তি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৪৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ওভাল অফিসে এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা মেরি ব্রুসকে তিরস্কার করেন। সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশ্ন করায় ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুবরাজের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানালেও, ট্রাম্প ব্রুসকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্ন করে আমাদের অতিথিকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।’ তিনি প্রশ্নটিকে ‘ভয়ংকর, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং একেবারে বাজে’ বলে অভিহিত করেন।

সাংবাদিককে উদ্দেশ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অনেকেই ওই ভদ্রলোককে (খাসোগি) পছন্দ করত না। আপনি তাকে পছন্দ করুন বা না করুন, মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে।’ এই কথোপকথনগুলো হয় সৌদি এজেন্টদের হাতে খাসোগির মৃত্যু ও অঙ্গচ্ছেদের ঘটনার পর যুবরাজের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়।

এবিসি নিউজের হোয়াইট হাউস সম্পর্কিত প্রধান সংবাদদাতা ব্রুসের প্রতি ট্রাম্পকে বেশ হতাশ মনে হচ্ছিল। ট্রাম্পকে ব্রুস যখন আরেকটি প্রশ্ন করেন, কেন তিনি একতরফাভাবে অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ফাইলগুলো প্রকাশের নির্দেশ দেননি, তখন ট্রাম্প আবার তাকে অপমানিত করেন। এর প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প মেরি ব্রুসকে বলেন, ‘প্রশ্ন করা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই; আপত্তি আপনার আচরণ নিয়ে।’

কড়া ভঙ্গিতে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় আপনি একজন জঘন্য রিপোর্টার। আপনি যেভাবে প্রশ্নগুলো করেন, সেটা আপত্তিকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি একজন জঘন্য মানুষ এবং একজন জঘন্য রিপোর্টার।’ এছাড়া প্রেসিডেন্ট এবিসি নিউজকে ‘একটা বাজে কোম্পানি’ বলে উল্লেখ করে বলেন, নেটওয়ার্কটির সম্প্রচার-লাইসেন্স ‘কেড়ে নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, তার শীর্ষ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক ব্রেনডান কারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, মিস্টার খাসোগির মৃত্যু ছিল ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।’ সংস্থাটি বলেছে, ‘একজন সাংবাদিককে হত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখা বা তার পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো মন্তব্য বাস্তব জগতে প্রভাব ফেলবে।’ যদিও ট্রাম্প নিয়মিতই সংবাদমাধ্যমকে হেয় করে কথা বলেন, তবে তিনি পুরুষ ও নারী উভয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গেই তীব্র অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেছেন।

গত শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে বসে ট্রাম্পের কাছে ব্লুমবার্গ নিউজের সাংবাদিক ক্যাথরিন লুসি যখন এপস্টিন সম্পর্কিত ফাইল প্রকাশ না করার কারণ জানতে চান, তখন ট্রাম্প তাকে বাধা দেন এবং বলেন, ‘চুপ! চুপ করো, পিগি।’ এই ধরনের স্কুল জীবনের অশ্রাব্য ভাষা ট্রাম্প আগেও ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদো।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প অবশেষে ব্রুসের উত্তর আর না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আপনার উচিত ফিরে যাওয়া এবং কীভাবে রিপোর্টার হতে হয়, তা শেখা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে আর কোনো প্রশ্ন চাই না।’


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর