প্রকাশিত:
১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৩২
পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে তারিক সাইফ মামুন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুজন মোটরসাইকেল আরোহী মুখে মাস্ক পরে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলের কাছেই লুটিয়ে পড়েন মামুন।
এর আগে মামুন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি মামলায় হাজিরা দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। সকালে দ্রুত বিচার মামলা ৩৫/২০০৩ এ তিনি আদালতে হাজিরা দেন। এরপর ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ভিক্টিম মামুন।
প্রত্যক্ষদর্শী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমি হাসপাতালের ফটকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখি, একজন দৌড়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন। পেছন থেকে দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে গুলি করতে শুরু করেন। প্রথম গুলি ভবনের ওপরের দিকে ছোড়া হয়, সেটা সোজা তিনতলার কাচে গিয়ে লাগে। ছয়–সাতটি গুলি ছোড়েন তারা। এর মধ্যে এক ব্যক্তির বুকের ডান পাশে ও হাতে গুলি লাগে।’
তিনি আরও জানান, গুলি ছোড়ার পর মোটরসাইকেলটি দ্রুত চলে যায়। এ সময় আশপাশের লোকজন আতঙ্কে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত সাইফ মামুনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মোবারক কলোনি এলাকায়। তিনি একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ মামুন দৌড়ে হাসপাতালের গেটে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। পেছন থেকে দুজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে সাতটি গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে তিনটি তার শরীরে লাগে।
ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সবাই ফটকের দিকে যায়। দেখি, একজন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হাসান জানান, ‘একটি গাড়ি থেকে নামছিলেন তিনি। দেখেছি, দামি মোবাইল ছিল তার হাতে। হঠাৎ দুজন ব্যক্তি গুলি শুরু করে। আশপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনা ঘটে যায়।’
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলহাতা টি-শার্ট পরিহিত মামুনকে সিনেমা স্টাইলে মাস্ক পরিহিত দুইজন বন্দুকধারী গুলি করতে করতে হাসপাতালে প্রধান ফটক থেকে একটু ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে মামুন কেন হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ বলেন, আমার ভাই মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কি কারণে তাকে কে হত্যা করলো, আমি জামি না। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই।
তবে পুলিশ বলছে তারিক একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের লোকজন। ওই গুলি লেগেছিল ভুবনের মাথায়। কয়েক মাস আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন জামিনে মুক্ত হন।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও তারিক সাঈফ মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন: