প্রকাশিত:
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:২১
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের কৃষকদের মাঝে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে ডিলারদের কাছে সার মিলছে না, অন্যদিকে খোলা বাজারে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সার। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও করেছেন তারা।
কৃষকরা জানান, ডিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকলেও তারা কৃষকদের কাছে সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। খোলা বাজারে একই সার পাওয়া যাচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন তারা। তাদের অভিযোগ, এর পেছনে ডিলারদের সিন্ডিকেট ও কৃষি অফিসের গাফিলতি রয়েছে।
সরকারি নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজিদরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রির কথা এক হাজার ৩৫০ টাকা, ২০ টাকা কেজিদরে এমপিও সারের বস্তা এক হাজার টাকা, ২৭ টাকা কেজিদরে টিএসপি সারের বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা ও ২১ টাকা কেজিদরে ডিএপি প্রতি বস্তা এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ডিলারদের কাছে সার পাওয়া না গেলেও খোলা বাজারে ২৭ টাকা কেজিদরের ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩৭ টাকা, ডিএপি ২৮ টাকা ও এমপিও ২৮ টাকা।
উলিপুরে হাতিয়ার চর শ্যামপুরের কৃষক ফুলজার হোসেন বলেন, এক একর ৩৫ শতক জমিতে আমন ধান রোপণ করেছি। এখন স্যারের দরকার।
বিভিন্ন দোকানে ঘুরে এক হাজার ৪৪৫ টাকা দরে দুই বস্তা সার নিয়েছি। ডিলারদের কাছে সার নেই। তবে খোলা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষকরা। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এ সময় সড়কের দুই পাশে ৫-৬ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। পরে ইউএনওর আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা।
এ ছাড়া কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টির প্রতিবাদে ১৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরে রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা করেছে।
আন্দোলনকারী ভূরুঙ্গামারীর কৃষক আজহার আলী ও জমশেদ আলী জানান, এখানকার ডিলার আব্দুল মান্নান কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করতে চান না। আমরা সার কিনতে গেলে টালবাহানা করেন। কিন্তু সেই সার খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছি।
ডিলারদের একটি সূত্র জানায়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সারের চাহিদা কিছুটা বেশি রয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, চলতি মাসে টিএসপি ২১ বস্তা, এমপিও ১০৩, ডিএপি ১০৩ ও ইউরিয়া ৭১০ বস্তা বরাদ্দ পেয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুরের কৃষক আফজাল হোসেন, মোবারক আলী, আব্দুস সামাদ বলেন, এসব ঘটনা কৃষি অফিস জেনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে তাদের তদারকি নেই। ডিলারদের কারসাজি রোধে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। ডিলারদের সঙ্গে তাদের গোপন সমঝোতা আছে বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগযোগ করার পরামর্শ দেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের তদারকি বা মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।’ তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি সার মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন: