প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৫৮
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড ক্যাপ্টেন জুয়ান চুং-চিংয়ের টহল নৌকাটি নিয়ে তাইওয়ান প্রণালীতে টহল দিচ্ছে। তিনি টিপি৩ নামক সাগরতলের ক্যাবল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাপ্টেন জুয়ানের ১০০ টনের নৌযানটিতে জলকামান ও স্বয়ংক্রিয় কামান রয়েছে।
এটি টিপি৩ নামের একটি সাগরতলের ক্যাবলের দিকে এগিয়ে যায়, যেটি এক চীনা জাহাজের ক্যাপ্টেন ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
জুয়ান বলেন, এই ধরনের মিশন এখন তাদের অগ্রাধিকার, কারণ চীন ‘গ্রে-জোন’ কৌশল ব্যবহার করে তাইওয়ানের সম্পদ নষ্ট করছে, যদিও তা সরাসরি যুদ্ধ নয়। ২৮ আগস্ট রয়টার্স প্রথমবারের মতো এই টহল অভিযানে যোগ দেয়।
গ্রে জোন বলতে সাধারণত বোঝায়, যেটি শান্তি এবং যুদ্ধের মধ্যবর্তী স্থানকে বর্ণনা করে। এখানে রাষ্ট্র এবং অ-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন নানা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
জুয়ান বলেন, তাদের অনুপ্রবেশ তাইওয়ানিজ সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার নৌকাটি ফেব্রুয়ারিতে টিপি৩ ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর চীনা-ক্রুদের মালিকানাধীন হং তাই ৫৮ নামক জাহাজটিকে তদন্তের জন্য আটক করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা এই এলাকায় টহল জোরদার করছি এবং এমন যেকোনো জাহাজ পর্যবেক্ষণ করছি যারা বিঘ্ন বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে।
তাইওয়ানি কর্তৃপক্ষ এ বছর চীন-সংযুক্ত জাহাজের বিরুদ্ধে সাগরতলের ক্যাবল নষ্ট করার দুটি সন্দেহজনক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে একটি তাইওয়ানের উত্তরে ঘটেছে।
তবে এই বিষয়ে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে তারা দাবি করেছিল, তাইওয়ান চীনকে দোষারোপ করে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করছে।
একটি অ্যালার্ট সিস্টেম ধীরগতিতে টিপি৩ থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আসা যেকোনো জাহাজ শনাক্ত করে। একই সঙ্গে রাডার স্টেশনের ডজন ডজন অপারেটর সন্দেহজনক জাহাজ চিহ্নিত করার কাজে নিয়োজিত।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সন্দেহজনক নৌযানগুলোকে প্রথমে রেডিও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, তারপর প্রয়োজন হলে কোস্ট গার্ড জাহাজ পাঠিয়ে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল লিন ফেই-ফ্যান রয়টার্স-কে বলেন, তাইওয়ান এই সমস্যার মুখোমুখি দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা সত্যিই চীনের খুব কাছাকাছি, আর ঘনবসতিপূর্ণ বহু সাবমেরিন ক্যাবল অঞ্চল ভীষণভাবে ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই দায়িত্ব কোস্ট গার্ডের সম্পদকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।এখানে তাদের মাত্র আটটি নৌযান ও প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা জীবনরক্ষাকারী মিশন এবং সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের দায়িত্বও পালন করছে।
তাদের নজরদারি তালিকার শীর্ষে রয়েছে ৯৬টি চীন-সংযুক্ত জাহাজ, যেগুলো তাইওয়ানের কালো তালিকাভুক্ত। অনেকেই তৃতীয় দেশ থেকে সুবিধাজনক পতাকা ব্যবহার করছে, যাতে কর ও নিয়ম এড়ানো যায়।
এ ছাড়াও তাইওয়ান প্রায় ৪০০ চীন-সংযুক্ত অন্য জাহাজের ওপর নজরদারি করছে, যার মধ্যে রয়েছে পণ্যবাহী জাহাজ—যা প্রয়োজনে যুদ্ধযানে রূপান্তর করা সম্ভব বলে এক জ্যেষ্ঠ তাইওয়ানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তাইপে ও অন্যান্য সমমনা দেশগুলো এসব জাহাজের রিয়েল-টাইম অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করছে।
মন্তব্য করুন: