শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট থামছেই না

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:২১

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা গ্রামে দুলাল শেখ হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট থামছেই না। গত ১৭ আগস্ট জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন দুলাল। এরপর থেকেই দফায় দফায় আসামিপক্ষের অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আমামিপক্ষের স্বজনদের দাবি, বাড়িঘরে লুটপাট ছাড়াও কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের বসতভিটায় থাকা গাছপালাও।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে ভাটি কলকিহারা গ্রামের দুলালদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের বিল্লালদের পরিবারে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিসি বৈঠকও হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি। গত ১৭ আগস্ট জমিতে সেচ দিতে যান বিল্লাল ও তার লোকজন।

এতে বাধা দেন দুলালের লোকজন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত দুলাল শেখকে মুমূর্ষু অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় ১৮ আগস্ট ৪২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহত দুলালের ছেলে সোহাগ মিয়া।

এদিকে, দুলাল শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও বাদী পক্ষের লোকজনের ভয়ে এলাকা ছাড়েন বিল্লাল ও তার পক্ষের লোকজন। এই সুযোগে তাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বাদীপক্ষের লোকজন। এর পর থেকেই আসামিদের বাড়িঘরে নিয়মিত চলছে ভাঙচুর ও লুটপাট।

আজ সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে জানা যায়, আসামি বিল্লালের বসতভিটায় থাকা চারটি ঘরের অস্তিত্ব নেই। তার বসতভিটা থেকে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গাছপালা। এসময় আসামিপক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনে আসামিপক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ির ঘরের বেড়া, দরজা, জানালা, ধান, পাট, শুকনো মরিচ, গবাধিপশু, ফ্রিজ, টিভি, নলকপু, ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র এমনকি বিদ্যুতের তার ও মিটার খুলে নিয়ে গেছে। আতঙ্কে আসামিপক্ষের লোকজন এলাকায় নেই।

আসামিপক্ষের লোকজন আরো জানান, তাদের কোনো কোনো বাড়িতে বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুরা রয়েছেন। তবে তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। খাবার নেই, নেই পানি ও বিদ্যুৎ। তাদেরকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বাদীপক্ষের লোকজন। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

দেখা হয় ফুলেরা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে থাকা সব জিনিসপত্র নিয়ে গেছে বাদীপক্ষের লোকজন। ঘরের বেড়া টিনের চাল, দরজা, জানালা এমনকি ধানের খৈড় পর্যন্ত নিয়ে গেছে। সারাদিন বাড়ির আশপাশে লোকজন ঘোরাফেরা করে। ভয়ে থাকি কখন জানি এসে হামলা ও মারধর করে। রাত হলে পাশের গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িত আশ্রয় নেই।’

এ ব্যাপারে মেরুরচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু এভাবে আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

জানতে চাইলে মামলার বাদী নিহত দুলাল শেখের ছেলে সোহাগ মিয়ার দাবি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাদের পক্ষের লোকজন জড়িত নয়। তৃতীয় একটি পক্ষ এই ঘটনায় জড়িত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় টানা সাত দিন ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন ছিল। কোনো বাড়িঘরে যাতে হামলা ও ভাঙচুর না হয়, সেজন্য বাদী পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। এমনকি আসামিদের বাড়িঘর তাদের জিম্মায় দিয়ে আসি। পরে বেশ কয়েকবার ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর