প্রকাশিত:
১৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০৮
শাসক বদলেছে কিন্তু শোষণ-নিপীড়নের রূপ বদলায়নি। আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি, গায়েবি মামলা, ভিন্নমতের ওপর হামলা, গোপন চুক্তি আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি। নতুন গোষ্ঠী এসেছে পুরনো কৌশলে। যেখানে মুক্তচিন্তা অপরাধ, প্রতিবাদ মানেই শত্রুতা।
এখন অন্তর্বর্তী সরকারসহ যারা ক্ষমতার অংশীদার তাদের মধ্যে এসব ক্ষেত্রে হাসিনা আমলের চূড়া ধরার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আনু মুহাম্মদ তার পোস্টে লিখেছেন, হাসিনা সরকারের আমলে চাঁদাবাজি, জোর-জুলুম, অস্বচ্ছতা, কমিশনভোগী চুক্তি, নজরদারি, বিচারহীনতা, ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি ইত্যাদি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছিল; যা আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকারসহ যারা ক্ষমতার অংশীদার তাদের মধ্যে এসব ক্ষেত্রে হাসিনা আমলের চূড়া ধরার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ আগে যাকে-তাকে ধরে পিটিয়ে পুলিশে দিত, এখনো নতুন নতুন নাম ব্যবহার করে একই রকম গোষ্ঠী শিক্ষক-শিক্ষার্থী রিকশাচালকসহ যাকে খুশি তাকে ধরে পিটিয়ে মেরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তখনো জনগণকে না জানিয়ে দেশবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে, এখনো করা হচ্ছে। এখনকার চাঁদাবাজি, চাঁদার দাবিতে হামলা খুন, ভুয়া পাইকারি মামলা সব আগেরই নতুন ‘অন্তর্বর্তী’ সংস্করণ।
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, হাসিনার আমলে তৈরি করা হয়েছিল সিপি গ্যাং, অনলাইন-অফলাইনে ভিন্নমতের মানুষদের প্রতি কুৎসিৎ গালাগাল, মিথ্যাচার, কুৎসা রটনা এগুলো ছিল তাদের কাজ।
অনলাইন ছাড়াও ট্যাগ দেওয়া দোসর বানিয়ে ব্যানার পোস্টার করে অপদস্থ করায় তাদের উৎসাহ ওপরের পিঠ চাপড়ানিতে বেড়ে যেত।
পছন্দ না হলে মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের আক্রমণ অপমান থেকে রেহাই পাননি। এই আমলেও সিপি গ্যাংয়ের নতুন সংস্করণ দাপটে ঔদ্ধত্বে একই কাজ করছে। মতে মিল না হলে তাদের গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় মানুষদেরও আক্রমণ করতে দ্বিধা নেই। তারাও একই রকম ওপর থেকে দৃশ্যমান অদৃশ্য পিঠ চাপড়ানি পেয়ে দিনে দিনে আরো শাখা-প্রশাখা ছড়াচ্ছে।
ভরসার কথা একটাই—তখনো এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল, এখনো আছে, আরো বাড়বে।
মন্তব্য করুন: