প্রকাশিত:
১৪ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:৪০
পটুয়াখালীর দশমিনায় শিক্ষক দম্পত্তিকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসানের অপসারণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট)-ও বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯ টা থেকে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইউএনওর বাসভবনের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরে ইউএনও-কে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাসার একটি পাইপ লাইনের পানি সরানোকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনও ইরতিজা হাসান দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এহসানুল হককে অফিসকক্ষে ডেকে লাঞ্ছিত করেন। ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ওইদিন গভীর রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পত্তিকে আবারও ডেকে মীমাংসা হয়েছে মর্মে জোর করে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে গতকাল বুধববার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে ইউএনও ইরতিজা হাসান সন্ধ্যার পর পুলিশি পাহাড়ায় দশমিনা ত্যাগ করেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় জনতা ইউএনও’র গাড়ির পেছনে ধাওয়া করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা না আসায় আন্দোলনকারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউএনও’র বাসভবনের সড়ক অবরোধ করে আবারও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
আন্দোলনকারীরা ইউএনও-কে অবিলম্বে ভুক্তভোগী শিক্ষকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে দশমিনা উপজেলা থেকে তাকে অপসারণের দাবি জানান। পরে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনও ইরতিজাকে অপসারণ করা না হলে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে ঘোষণা করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মাদ আরেফীন বলেন, ‘ইতোমধ্যে তাঁকে (ইউএনও) ছুটিতে নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার স্যার বিদেশে আছেন। তিনি এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন: