প্রকাশিত:
১০ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:০৫
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার (১০ আগষ্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথ সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ ও শাহজাদপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মহাসড়কে অবস্থান নেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থী হৃদয় সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাড়া ভবনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
সাত দফায় ডিপিপি সংশোধন করে ৯ হাজার ২৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রায় ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ব্যয় কমিয়ে ৫৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়টি একনেক সভার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
শিক্ষার্থী মিরাজ বলেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শন করেন। আমরা মনে করি তিনি ফিরে গিয়ে পরিবেশের দোহাই দিয়ে এ প্রকল্পের বিরোধিতা করার কারণে প্রস্তাবনাটি একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
বক্তারা পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিপিপি বাস্তবায়ন না হলে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে রাজপথে আন্দোলন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯ বছরে ডিপিপি আটবার সংশোধন করে জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন করছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে এসে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল মোড়ে কর্মসূচি পালন করায় আমরা চিন্তিত। শিক্ষার্থীদের অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এখানে এসেছি।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচির কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চারটি মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যানবাহনে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।
যানজট প্রসঙ্গে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুর রউফ জানান, শিক্ষার্থীরা হাটিকুমরুল গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চল লেন বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তবে দুটি ওভারপাস দিয়ে কিছু যানবাহন চলাচল করেছে। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) একই স্থানে মানববন্ধন করে দাবি মানতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। তাতে সাড়া না দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
মন্তব্য করুন: