শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

রাজনৈতিক শিষ্টাচার : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৯ আগষ্ট ২০২৫, ১৪:১৭

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে অখণ্ড পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি গঠিত হয় এবং ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্র পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ গুণী বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের জীবনী লেখনি ও তাদের বক্তৃতার মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি অশ্রদ্ধা, অশালীন মন্তব্য আমরা কখনো শুনতে পাইনি।

ভারতবর্ষের কোনো নেতা একে অপরের প্রতি কোনো কটাক্ষ করে আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে বলে মনে হয় না। ৩০ লক্ষ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের পরেও পাকিস্তানের কোন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী বা সেনাবাহিনী প্রধানদের প্রতি তির্যক বাক্য বানে জর্জরিত ও করা হয়নি।

সমালোচনা হয়েছে তবে সেটা শালীনতা বজায় রেখে করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি নেতাদের প্রতি খারাপ ভাষার ব্যবহার করতে শুনিনি। স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে এনে রাজনীতি করার সুযোগসহ বাড়িঘর অর্থ-সম্পদ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান সংসদে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সম্মান জানিয়েছেন। এতে তিনি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের জায়গাটা স্থান করে নিয়েছেন। বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। তার রত্নগর্ভা মা তাকে পেটে ধারণ করে জন্ম দিয়ে পারিবারিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।

যার প্রমাণ বেগম খালেদা জিয়ার বহুনির্বাচনী বক্তব্য ও সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংগ্রামী মহাসচিব ক্লিন ইমেজের অধিকারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালভাঙার দৃশ্য দেখে ব্যথিত হয়েছেন।

এটা শেখ হাসিনার দুঃশাসন হত্যা, খুন, গুম জনগণের প্রতি নির্দয় নিষ্ঠুর ব্যবহার অতিকথন মিথ্যাচারের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমান এবং জিয়া পরিবারের সম্মানিত সদস্যদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ অহংকারের ভাষায় মন্তব্য করেছেন যা সাধারণ মানুষদেরকে আহত ও মর্মাহত করেছে। এসব ভাষাগুলো কোনো সভ্য ভদ্রলোক সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর মতো আসনে বসে মানহানিকর নোংরা কথা বলা সমীচীন নয়।

মাওলানা মামুনুল হক সাহেব ৫ আগস্টের পর বেগম খালেদার জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। তিনি বলেন, আমি প্রায় আধাঘণ্টা বেগম জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছি কিন্তু তিনি একবারও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এজন্য যে বেগম জিয়ার প্রতি শেখ হাসিনা যে সীমাহীন অত্যাচার মানসিক শারীরিক নির্যাতন এবং দয়াময়হীন নির্মম ব্যবহার করেছেন এই পরিস্থিতিতে দুটো কথা বলা স্বাভাবিক ছিল কিন্তু সেটা তিনি করেননি।

বাংলাদেশে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বক্তৃতায় টক শোতে পরনিন্দা চর্যায় মেতে উঠেছেন। একে অপরকে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। ফলে রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষ ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে। জুলাই আন্দোলনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ কথা বলেছেন পরামর্শ নিয়েছেন অথচ একটি দলের নেতৃবৃন্দ তার সম্পর্কে যে অযাচিত মন্তব্য করেছেন তা কখনো সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী। এর ফলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নষ্ট হচ্ছে। কর্মীরাও হতাশ ব্যতীত ও মর্মাহত হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে পরিগণিত করেছেন। তার বুদ্ধিদীপ্ত পরিচালনায় আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার।

আবার জামায়াতে ইসলামীর আমির অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে বিএনপির মহাসচিব তাকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন সময় দিয়েছেন। এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার। যে দৃশ্য অবলোকন করে জনগণ শান্তি অনুভব করেছে। ছাত্র শিবিরের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি গেছেন কুশল বিনিময় করেছেন। পারস্পরিক সোহার্দ্য সম্প্রীতি শ্রদ্ধাবোধ সহনশীল ও গঠনমূলক রাজনীতি উভয় দলের কর্মীদেরকে ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ এবং মনোভাব একে অপরের প্রতি এমনটা হওয়া উচিত।

জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ভিপি নুর জুলাই বিপ্লবে বিভিন্ন দিক থেকে সাহায্যের জন্য তারেক রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেব, তাবিদ আউয়াল, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক সাহেবের প্রশংসা করেছেন। এই মুহূর্তে প্রয়োজন সব বিভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের ভালো কাজের প্রশংসা করা যাতে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় থাকে এর জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম। দেশনেত্রী বেগম খালেদ জিয়াকে সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মাইনাস করার জন্য বিগত সরকার বহু চেষ্টা করেছে। তিনি দেশ এবং দেশের মানুষকে এত ভালোবাসেন যা কখনো স্বৈরাচার সরকার করতে পারেননি।

কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মহান ব্যক্তিটি সারা পৃথিবীর অহংকার আমাদের গর্ব ও জাতীয় সম্পদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্পর্কে যে সীমাহীন অত্যাচার নিপীড়ন শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেছেন জনগণের কাছে তা কখনো কাম্য ছিল না। অথচ বেগম খালেদা জিয়া মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে তাকে সম্মানিত করেছেন এবং মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন এ ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানিত করেছেন।

বাংলাদেশে বিভিন্ন দলের অনেক পরিষ্কার ইমেজের সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। যেমন আমার দেখা ঢাকা ১৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। উপদেষ্টা বিএনপি চেয়ারপারসন। তার আচার আচরণ ভদ্রতা শিষ্টাচার টক শোতে কথা বলা হাসিমুখে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময় ব্যবহারের মাধুর্যতা কারোর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ নয় বরং মানুষের চিন্তা চেতনা ও গুণগতমানের পরিবর্তন আনয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মোহাম্মদপুর থেকে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ দূর করার জন্য শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক সাংবাদিক রাজনীতিবিদ এমনকি ভিন্নমতের ব্যক্তিরাও তার অনুষ্ঠানে এসে তাকে ভালো কাজের সমর্থন জানিয়েছেন অংশগ্রহণ করেছেন পরামর্শ দিয়েছেন বক্তৃতা করেছেন। তিনি কারোর প্রতি কোনো কটাক্ষ করে কথা বলেন না।

রাজনীতিবিদরা হবেন বহ্নি পোকার মতো। পোকামাকড় যেমন আলোর দিকে ধাবিত হয় তেমনি রাজনীতিবিদরা হবেন আলোকিত ব্যক্তিত্ব যাদেরকে দেখে জনগণ আকৃষ্ট হবে। আব্দুস সালাম হলেন সেই মহান ব্যক্তি যাকে দেখলে মানুষ আকৃষ্ট হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতাদের প্রতি জনগণ আকৃষ্ট হলে তার রাজনৈতিক জীবন সার্থক ও সুন্দর হবে।

রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে তবে শত্রুতা নয়। আক্রমণ নয় বরং ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ধারক ও বাহক হয়ে উঠতে পারলে রাজনীতিবিদরা বাস করবেন মানুষের হৃদয়ে। তাহলে পৌঁছানো যাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। হয়ে উঠবেন আপনি অবিসংবাদিত নেতা। বাস করবেন মানুষের মনের মনিকোঠায়। সার্থক ও সুন্দর হবে আপনার ধরার জীবন। আর ধন্য হবে জনগণ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর