প্রকাশিত:
৪ আগষ্ট ২০২৫, ১৭:৩২
বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনা বেগম। ছবি : সংগৃহীত
বরিশালের বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা বরিশাল জেলা প্রশাসক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের দুটি ভিন্ন খাতে বরাদ্দ আসে।
এর মধ্যে ৬১ হাজার টাকার রং এবং ৫৯ হাজার টাকার চেয়ার-টেবিল কেনার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কিছুই করা হয়নি। সম্পূর্ণ অর্থই প্রধান শিক্ষিকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত স্যানিটেশন সামগ্রী সরবরাহ না করে সবাইকে নিজ খরচে তা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনা বেগমের আচরণ অত্যন্ত কর্তৃত্বপরায়ণ।
তিনি নিয়মিত সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিরস্কারমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। বিদ্যালয়ে একটি অস্বচ্ছ ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন। তাদের আরো অভিযোগ, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাকসুদা বিনতে কাদির বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছেছে।
তিনি কারো সঙ্গেই ভালো আচরণ করেন না। আমরা জানতে পেরেছি, রং ও আসবাবপত্রের জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও তিনি কোনো কাজই করাননি।’
প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।’
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল এমরান খন্দকার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
’তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’
মন্তব্য করুন: