প্রকাশিত:
৩১ জুলাই ২০২৫, ১৭:২০
ফরিদপুরে শওকত মোল্যা (২০) নামে এক চালককে হত্যা করে ইজি বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাকসুদুর রহমান এ রায়ের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি চৌধুরী জাহিদ হাসান খোকন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী আবু কাওসার (২৬), জনি মোল্যা (৩১), রাজেস রবি দাস (৩০) ও রবিন মোল্যা (২৬) উপস্থিত থাকায় তাদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি রাসেল শেখ (২৬) পলাতক রয়েছে।
জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই জেলা শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া। এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া অপর আসামি বাদশা শেখ (২৬) রাজবাড়ী জেলা সদরের মজলিসপুর এলাকার মুরাদ শেখের ছেলে।
তিনি ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি ক্রয় করেছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে ফরিদপুর শহরে বের হন সালথা উপজেলার দেয়ালীকান্দা গ্রামের ও শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের ভাড়াটিয়া শওকত মোল্যা। ওইদিন রাতে তিনি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খুঁজতে থাকেন। পরেরদিন সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ি সড়কের শেষপ্রান্তে একটি ধানক্ষেতে শওকতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।
এ ঘটনার পরেরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা আয়নাল মোল্যা।
মামলা দায়েরের তিনদিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। এরপর পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম আক্তার।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি চৌধুরী জাহিদ হাসান খোকন জানান, আসামিরা ইজিবাইকটি ভাড়া করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। এক পর্যায়ে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি।
মন্তব্য করুন: