প্রকাশিত:
২৯ জুলাই ২০২৫, ১৭:২৩
হরমোন পরিবর্তনের প্রভাব শুধু শারীরেই পড়ে না, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তনের পেছনে অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কাজ করে। মূলত, শরীরের মতো মনও নানাভাবে জানান দেয় যে সে ভালো নেই। কিন্তু শরীর নিয়ে কম-বেশি সচেতন হলেও মনের হাল নিয়ে অনেকেই খুব একটা ভাবেন না।
শরীরের অনেক নিয়ন্ত্রকের মধ্যে অন্যতম হলো হরমোন। তেমনই কিছু নির্দিষ্ট হরমোনের প্রভাব সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। এসব হরমোন শরীরের রাসায়নিক বার্তাবাহক। যখন শরীরের বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা কমে যায় বা অস্বাভাবিক হয়, তখন উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হতে দেখা যায়।
তাহলে হরমোনের কারণে কিভাবে মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের প্রভাব কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে গেলে রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সেরোটোনিন কমে যায়। এই হরমোনটি সুখের অনুভূতির জন্য জরুরি। ইস্ট্রোজেনও সেরোটোনিনকে প্রভাবিত করে, ফলে মানসিক স্থিরতা কমে যায়।
থাইরয়েড ও অন্যান্য রোগের প্রভাব
থাইরয়েড হরমোন শক্তি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এর অস্বাভাবিকতা উদ্বেগ, অস্থিরতা ও মেজাজ খারাপের পেছনে থাকতে পারে। পিসিওএস কিংবা পিসিওডি, মেনোপজ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা অন্যান্য হরমোনজনিত রোগও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘুমের ব্যাঘাত
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। আর এই ঘুমের ওপরও প্রভাবে ফেলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
মেলাটোনিনসহ ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বেড়ে যায় বিষণ্নতা ও রাগ।
প্রসব-পরবর্তী হরমোন পরিবর্তন
সন্তান প্রসবের পর মায়ের ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। এই পরিবর্তন অনেক নতুন মায়েদের প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার কারণ হয়।
ডায়েটে কী রাখবেন
খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের ফল ও শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। পুষ্টিকর রঙিন খাবার গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
আপেল, স্ট্রবেরি, চেরি, কালো জাম, পেয়ারা, তরমুজ, কমলা লেবু,অ্যাভোকাডো, বাঁধাকপি ও ব্রকলি ইত্যাদি খান।
শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাটও প্রয়োজন। ঘিয়ে থাকে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে২। এ ছাড়া অ্যাভোকাডো তেলও ব্যবহার করতে পারেন। সেই সঙ্গে বাদাম ও আখরোট খান।
ডিমের কুসুমে থাকে এ, ডি, ই, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও সেলেনিয়ামসহ বেশ কয়েকটি ভিটামিন। এই ভিটামিন ও খনিজগুলো প্রাকৃতিকভাবে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হজমের সমস্যা থাকলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা লক্ষ করা যায়। প্রো-বায়োটিকস খেলে উপকার হতে পারে। তাই ডায়েটে রাখুন দই, বাটারমিল্ক ও ভাতের ফ্যান।
চিনি খাওয়া কমান। চিনি হরমোনের কার্যকারিতার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন এবং নানা রোগ হতে পারে।
হরমোনের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের জন্য, তুলসি ও ভেষজ চা পান করতে পারেন। এই পানীয় স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি দীর্ঘদিন ধরে মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, স্মৃতিভ্রংশ, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার মতো অস্বাভাবিক উপসর্গ লক্ষ্য করেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে হরমোনজনিত সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
হরমোন যেহেতু সরাসরি মেজাজ, ঘুম, শক্তি ও আচরণে প্রভাব ফেলে, তাই শারীরিক হোক বা মানসিক, যেকোনো পরিবর্তনে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন: