প্রকাশিত:
২৯ জুলাই ২০২৫, ১৭:০৬
নাইজেরিয়ার উত্তরের জামফারা রাজ্যের একটি গ্রাম থেকে অপহরণ করা অন্তত ৩৫ জনকে মুক্তিপণ দেওয়ার পরও হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা। সম্প্রতি বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধীচক্রগুলো অর্থ উপার্জনের জন্য গণহারে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কে ব্যবসায় পরিণত করেছে।
গত মার্চ মাসে জামফারা রাজ্যের কাওরান নামোডা এলাকার বাঙ্গা গ্রাম থেকে ৫৬ জনকে অপহরণ করে বন্দুকধারীরা।
তাদের মুক্তির জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিময়ে ১০ লাখ নাইরা (প্রায় ৬৫৫ মার্কিন ডলার বা ৭৬ হাজার টাকা) করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রধান মান্নিরু হাইদারা কাউরা জানান, নিহতদের অধিকাংশই তরুণ, যাদের ভেড়ার মতো জবাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দস্যুরা মুক্তিপণ চেয়েছিল। অনেক দর-কষাকষির পর তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়।
এরপর শনিবার ১৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এদের মধ্যে ১৭ জন নারী এবং একজন ছোট ছেলে ছিল। তারা কেন বাকি লোকদের হত্যা করল তা একমাত্র তারাই জানে। তারা হৃদয়হীন ও নির্বোধ। তারা ভুলে গেছে যে নিজেদেরই ভাইদের হত্যা করছে। একদিন আমরা সবাই আল্লাহর দরবারে হাজির হব।’
শনিবার যাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৬ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে নিহত ৩৮ জনের মরদেহ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় লাশ ফেরত দেওয়া হয় না।
অপহরণ রোধে নাইজেরিয়ার সরকার ২০২২ সালে একটি আইন করে, যেখানে মুক্তিপণ দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আইনে কমপক্ষে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
আইনে আরো বলা হয়েছে, অপহৃত ব্যক্তি মারা গেলে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে বাস্তবতা হলো, সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে প্রিয়জনদের মুক্তির জন্য অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে।
মন্তব্য করুন: