শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

আদর্শের পেছনে হালুয়া-রুটির রাজনীতি, দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৯ জুলাই ২০২৫, ১৮:৪৮

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি আজ দুই মেরুতে বিভক্ত—একদিকে আদর্শিক রাজনীতি, অন্যদিকে ক্ষমতা ও সুবিধার রাজনীতি। যাকে অনেকেই বলেন ‘হালুয়া-রুটির রাজনীতি’। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি শুরু হয়েছিল, তা আজ মার্জিনে চলে গেছে। রাজনীতি এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত লাভ, পদ-পদবি ও সম্পদ আহরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

’তিনি বলেন, ‘আদর্শের রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোণঠাসা হয়ে গেছে। আর হালুয়া-রুটির রাজনীতি হয়ে উঠেছে মূল স্রোত। এ অবস্থায় জনগণের আস্থা হারাচ্ছে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আর দেশ চলেছে এক গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে।’

সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমানের তৃতীয় মাত্রা টক শোতে অংশ নিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এসব কথা বলেন।

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ছাত্রনেতা সোহাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্তে সংঘটিত সহিংসতা রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেন, ‘গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট সৈরশাসনের অবসান ঘটেছে, যা জনগণের একটি ঐতিহাসিক বিজয়। এই বিজয় শুধু ক্ষমতার হাতবদল নয় বরং জনতার দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতিফলন। তবে এই বিজয় এখনো অসমাপ্ত।

কারণ জনতার মূল দাবি ছিল ভোটাধিকার ও জনগণের ক্ষমতায়ন। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের পরেও দেশে নতুনভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “বর্তমান সরকারকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন’ হিসেবেই দেখতে হবে। এ সরকার নির্বাচিত নয় বরং একটি অস্থায়ী রূপান্তরকালীন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। তাদের মূল কাজ হওয়া উচিত নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। যাতে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করতে পারে।”

নির্বাচনের আগে কি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, যদি বিচারব্যবস্থা সংস্কার ছাড়াই কার্যকর হয়, তাহলে নির্বাচনও সংস্কার ছাড়াই করা যেতে পারে—এই চিন্তা একটি আত্মঘাতী ও স্ববিরোধী অবস্থান। বিচার বা নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করছেন যে, কিছু দলের প্রতি সরকারের নীরব সমর্থন কিংবা আশীর্বাদ রয়েছে। যা একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, এই অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি ছিল জনগণ। অথচ এখন জনগণকে আবারও প্রান্তে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এলিট শ্রেণি নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি বলে দাবি করছে অথচ বাস্তবে তারা জনগণের চিন্তা বা দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সেই লক্ষ্য অপূর্ণ। এই ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের জন্য আজ প্রয়োজন সর্বাত্মক রাজনৈতিক সংস্কার।’

আলোচনায় উঠে আসে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও। সেলিম বলেন, ‘রাজনীতি এখন দুই ধারায় বিভক্ত—আদর্শের রাজনীতি ও হালুয়া-রুটির রাজনীতি। আদর্শিক রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনকভাবে মার্জিনে চলে গেছে। এখন রাজনীতিতে প্রবেশ মানেই ব্যক্তিগত স্বার্থের পেছনে ছোটা। ফলে জনগণের মধ্যে রাজনীতির প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যদি অরাজনৈতিক শক্তি বা তথাকথিত নিরপেক্ষ গোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি তোলে। তাহলে সেটা একটি বড় বিপদ। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনা নিজেই একটি রাজনৈতিক দায়িত্ব। এটি কখনোই রাজনীতির বাইরে থেকে সম্ভব নয়।’

বর্তমান সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত, যেমন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ, মানবিক করিডরের অনুমতি, কিংবা সামরিক প্রকল্পে আন্তর্জাতিক জড়িতকরণ এসব নিয়ে জনতার ম্যান্ডেট ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে—এটা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার নির্বাচিত নয়। তাই নীতিগত এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এদের নেই। এদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা।’

সেলিম বলেন, ‘আমরা ঐকমত্যের কথা বলি, কিন্তু শ্রেণিভিত্তিক সমাজে বাস্তবিক অর্থে পূর্ণ ঐকমত্য সম্ভব নয়। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বহুমতের চর্চা থাকা আবশ্যক আর সেই বহুমতের চর্চাকে সিভিলাইজড ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিচালিত করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর