প্রকাশিত:
১৬ জুলাই ২০২৫, ১৬:১৪
পূর্ব কঙ্গোর গোমা শহরের উপকণ্ঠে বিরেরে নামের এক অনানুষ্ঠানিক বসতিতে লোহার পাতের ছোট্ট ঘরে দিন কাটে ১২ বছরের দিমিত্রির (ছদ্মনাম)।
দিমিত্রি রাশিয়ান শান্তিরক্ষী ও স্থানীয় নারী কামাতে বিবিচের ছেলে। কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এমওএনইউএসসিও-র এক বেদনাদায়ক স্মৃতি সে। ১৯৯৯ সাল থেকে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের পর থেকে রয়েছে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার মা কামাতে বলেন, ‘ওর কোঁকড়ানো চুল আর হালকা গায়ের রঙের কারণে বাকি শিশুরা প্রায়ই ওকে বিরক্ত করে। সেই লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে চায় না বলেই ঘরেই লুকিয়ে থাকে।’
কামাতে তার বিছানার নিচ থেকে ধুলোমাখা এক বাক্স বের করে আনলেন। সেখানেই রয়েছে তার অতীতের স্মৃতি—একটি পুরনো সামরিক টুপি ও ইউরি নামের সেই শান্তিরক্ষীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি, যিনি দিমিত্রির বাবা।
স্মৃতিচারণ করে কামাতে বলেন, ‘ও অন্যদের মতো ছিল না। খুব ভালো ব্যবহার করতো, ভালোবাসতো। সেই তিন মাস ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে শান্তিময় সময়।’
ইউরি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ছিলেন।
কামাতে জানান, গর্ভাবস্থার কথা জানার পর সন্তান ও মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউরি। কিন্তু হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হন তিনি, আর ফের দেখা মেলেনি তার। ফোন নম্বরটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের ২০০৫ সালের একটি প্রস্তাবে জাতিসংঘ কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সম্পর্ককে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে বিবেচনা করা হয়, এমনকি তা সম্মতিতেই হয়ে থাকলেও।
এমওএনইউএসসিও মুখপাত্র জানান, ‘আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে ২০১২ সালে নিয়োজিত রাশিয়ান শান্তিরক্ষীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন: