শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

যে ভাইকে জেল থেকে বের করেছি, সেই আমার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৫ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৮

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা পৌর শহরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড। নিজের ছোট ভাইকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন বড় ভাই, অথচ সেই ছোট ভাই-ই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। এই নৃশংস ঘটনাটি স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকা।

### তিনটি নিথর দেহ, এক ভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকতা

সোমবার দুপুরে ভালুকার পনাশাইল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ময়না আক্তার (৩০), মেয়ে রাইসা আক্তার (৭) ও ছেলে নীরব হোসেন (৫)-এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা সবাই একটি কক্ষের ভেতর খাটের ওপর পড়ে ছিলেন। সবার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি আমার ভাইকে একটি হত্যা মামলায় জেল থেকে বের করতে ৪০ হাজার টাকা ধার করে জামিন করাই। আড়াই মাস হলো সে বাড়িতে। অথচ সে-ই আমার সবকিছু শেষ করে দিলো। আমি এখন কার জন্য বাঁচব?”

তিনি জানান, তার ভাই নজরুল ইসলাম এর আগেও গাজীপুরে একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন।

বাসার মালিক হৃদয় হাসান বলেন, রফিকুল দেড় মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন এবং তার ভাই নজরুল আলাদা একটি কক্ষে থাকতেন। তারা কখনো ঝগড়া বা বিরোধ করেছেন, এমন কিছু চোখে পড়েনি।

ঘটনার দিন সকালে রফিকুল কাজ থেকে ফিরে এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে বাড়িওয়ালাকে নিয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ দেখতে পান। সেই মুহূর্ত থেকেই নজরুল ইসলাম পলাতক।

পুলিশ জানায়, নজরুলের কক্ষ থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান,
“আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করি। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি, দ্রুতই মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

স্থানীয়রা হতবাক হয়ে বলেন,

“এতো শান্ত স্বভাবের পরিবার ছিল। যে ভাইয়ের মুক্তির জন্য শেষ সম্বল দিয়ে লড়েছিলেন, সেই ভাই-ই তার সমস্ত কিছু কেড়ে নিল। এটা কিভাবে সম্ভব?”

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর