প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫৭
নায়ক-নায়িকার বাইরে ঢাকাই সিনেমাতে কমেডিয়ান হিসেবে যার তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল, তিনি দিলদার। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই হাসির খোরাক আর দর্শকের উচ্ছ্বাস। তার অভিনয় এতটাই উপভোগ করতো দর্শক, কেউ কাউকে হাসালেই তাকে ‘দিলদার’ উপাধি দেয়া হতো।
এই অভিনেতার মৃত্যুর পরে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অনেক কৌতুক অভিনেতাই এসেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন।
কিন্তু কেউই দিলদারের অভাব পূরণ করতে পারেননি। বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তাই দিলদার আজও এক স্মরণীয় নাম।
আজ রবিবার (১৩ জুলাই) দিলদারের ২২তম প্রয়াণ দিবস। ২০০৩ সালের এই দিনে ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয় কিংবদন্তী এ চলচ্চিত্র অভিনেতার। এত বছর পরেও তিনি এখনও দর্শকের মনে অমলিন।
১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। মা-বাবার দেওয়া নাম ছিল দেলোয়ার হোসেন। চলচ্চিত্র জগতে এসে হয়ে যান দিলদার।
তিনি শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও ছিলেন সকলের মন জয় করা একজন মানুষ।
১৯৭২ সালে, ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নাম লেখান দিলদার। এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমায়। চার দশকের কম সময়ে তিনি অভিনয় করেন ৫০০ এরও বেশি সিনেমায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘অজান্তে’, ‘প্রিয়জন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘নাচনেওয়ালী’ ইত্যাদি।
একজন অভিনেতার বাইরেও দিলদার ছিলেন একজন প্রাণবন্ত মানুষ। শুটিং সেটে তার প্রাণখোলা হাসিতে মেতে থাকতো শুটিং সেটের অন্যান্য শিল্পীরা। অভিনয়ের বাইরে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘লাল বাদশা’ ছবির জন্য ‘শুধু ডিম দিয়ে পরিচয়’ গানটি নিজেই গেয়েছিলেন, পরে যেটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি চলচ্চিত্র। নূতনের বিপরীতে এই ছবিতে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ছবির গানগুলো।
সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন দিলদার। যে বছর সেরার স্বীকৃতি পেলেন সে বছরই কোটি কোটি দর্শককে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় জানান তিনি।
পারিবারিকভাবে দিলদার দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা বেঁচে আছেন।
মন্তব্য করুন: