প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিচার দাবি করেছে। রবিবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—জুলাই অভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদাতা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা এবং গণভবনে গিয়ে স্বৈরাচারের মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার দাবি করা।
মানববন্ধনে বক্তারা গণহত্যাকার্যে মদদদানকারী এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ইমেরিটাস অধ্যাপকদের দ্রুত অপসারণ এবং ফ্যাসিবাদীদের চিরতরে দমনের জন্য দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের আজকের কর্মসূচির দুটি প্রধান এজেন্ডা—খুনি হাসিনার ফাঁস হওয়া রেকর্ডের বিচার দাবি এবং যারা তাকে উৎসাহ দিয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, যারা তৎকালীন সরকারকে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য ‘ব্ল্যাংক চেক’ দিয়েছিল, তাদের বিচার।
তিনি আরো বলেন, ‘এখন সেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিপক্ষে বিবৃতি দিচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, যেদিন আমাদের সন্তানদের ওপর হামলা, অত্যাচার এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেদিন আপনাদের বিবেক কোথায় ছিল? সেদিন তো আপনারা কোনো বিবৃতি দেননি।’
তিনি পরিষ্কারভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকের বিচার দাবি করে বলেন, ‘এখানে কোনো লুকোচুরি নেই, তারা সেই সময়ে গণভবনে গিয়েছিলেন এবং ভিডিও ফুটেজ ও ইলেকট্রনিকস, প্রিন্ট মিডিয়াতে তার প্রমাণ রয়েছে।
সেই সকলের ভিত্তিতে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাব—এদের বিচার করার জন্য।’
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কিভাবে জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল খুনি শেখ হাসিনা। বিবিসি তাদের অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে নিশ্চিত করেছে—এটি ছিল খুনি হাসিনারই নির্দেশনামা।’
ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম সরকার বলেন, ‘যত দ্রুত সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করা হবে, এটাই হবে এ দেশের সবচেয়ে বড় সংস্কার।
স্বল্প সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবি আইবিএর অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আজহারুল ইসলাম, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনামূল হক, চারুকলা সাদা দলের আহ্বায়ক শিল্পী ইসরাফিল রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন, পি জে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল হলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এ কাওসার, অধ্যাপক শফিউল্লাহ, অধ্যাপক ড. আসাদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, অধ্যাপক শাহ শামীম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষক।
মন্তব্য করুন: