শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

আইন অমান্য করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১২ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৩

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বলদীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমা খাতুন একটি ঘর পেয়েছিলেন উপজেলার উত্তরশ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তবে সেই ঘর মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন উত্তরশ্যামপুর গ্রামের সাগর হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে।

শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আরো সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রি করেছেন দেওঘর গ্রামের জবেদা খাতুন। টাগড়া গ্রামের মো. হবু নামের এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

জবেদা খাতুনের প্রতিবেশী রেজিয়া খাতুনও উত্তরশ্যামপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের কাছে ৩০ হাজার টাকায় তার ঘরটিও বিক্রি করেছেন।

যদিও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তি নিজ সন্তান ছাড়া অন্য কারো কাছে তা হস্তান্তর করতে পারবেন না বলে জানান তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে কর্মরত সার্ভেয়ার আব্দুল মমিন মণ্ডল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিক্রেতারা গোপনে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে বিক্রেতার স্বাক্ষর বা টিপসই নিয়েই বিক্রির পর্ব শেষ করছেন।

এদিকে, শনিবার (১২ জুলাই) সরেজমিন ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে দেখা গেছে, রেজিয়া খাতুনের বিক্রি করা ঘরে ক্রেতা সাইদুর রহমানের ভাই সাইফুল ইসলাম ব্রয়লার মুরগির খামার করেছেন। বিক্রি হওয়া অন্য দুটি ঘরে তালাবদ্ধ করে করে রেখেছেন ক্রেতারা।

শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে জানা গেছে, শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মোট গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের সংখ্যা ৩৫টি। বর্তমানে তিনটি ঘর বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘর পাওয়া হাড়িসোনা গ্রামের জহুরুল ইসলাম, দেশিগ্রামের শারমীন খাতুন, তাড়াশের ছানা, বুলবুলি খাতুনসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন তাদের বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকেন না।

তাছাড়া তাদের মধ্যে দুই-একজন কাজের জন্য ঢাকায় বা অন্যত্র থাকলেও বেশিরভাগ ঘর পাওয়া বাসিন্দারা তাদের আগে থেকেই কোনো এলাকায় ঘরবাড়ি থাকায় আগের বাড়িতেই আছেন। এ কারণে আশ্রয়ণের সরকারি ঘরে তালাবদ্ধ রেখে মালিকানার জানান দিচ্ছেন বা বিক্রির পাঁয়তারা করছেন।
তবে শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘যারা সরকারি ঘর বিক্রি করেন, তারা আমাদের না জানিয়ে গোপনে করেন। পরে যখন ক্রেতারা বসবাস শুরু করেন, তখন বিক্রির বিষয়টি জানা যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে গত তিন-চার মাসের মধ্যে আমাদের আশ্রয়ণে তিনটি ঘর বিক্রির বিষয় প্রকাশ হয়েছে।

মূলত তদবির, জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের লোকজন বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সামর্থ্যবানরা ঘর পেলেও তারা ঘরে থাকবে না, অথবা বিক্রি করে দেবেন এটাই স্বাভাবিক।’

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি ধাপে বিগত সরকারের সময়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন এলাকায় গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরের সংখ্যা ছিল ৩৫৬টি। এর মধ্যে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড়মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি মৌজায় ৪৮টি, শ্যামপুর মৌজায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩৫টি, তালম ইউনিয়নের গুল্টা মৌজায় খ্রিষ্টান মিশনারিপাড়ায় ১৩টি, গুল্টা কলেজ পাড়ায় ৬টি ঘর রয়েছে। অন্যগুলো বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্যামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের তিনজন ও বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া তেঘরী গ্রামের ফয়েজ আলী ও কর্ণঘোষ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক এক লাখ টাকা করে মোট পাঁচজন তাদের নামের বরাদ্দের ঘর বিক্রি করেছেন।

কিন্তু ঘর বিক্রি প্রসঙ্গে তেঘরী গ্রামের ফয়েজ আলী ও কর্ণঘোষ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণের এক নারী সদস্য বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি আশ্রয়ণের ঘর বিক্রি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি মিথ্যা নয়। আপনারা (সাংবাদিক) খোঁজ নিতে পারেন।’

এ ছাড়া শ্যামপুরে আট থেকে ১০ জন, বড়মাঝদক্ষিণা সাত থেকে আটজন, গুল্টা কলেজপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে গত দেড় বছর ধরে ঘর বরাদ্দ পাওয়া ১৮ থেকে ২০টি পরিবার আদৌ বসবাস করেননি। বর্তমানে এসব ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং সেসব ঘরে তালা ঝুলছে। তবে গুল্টা খ্রিষ্টান মিশনারিপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টির মধ্যে ১৩টিতেই পরিবারসহ বসবাস করছেন বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলো। এখনকার কেউ ঘর বিক্রি বা ঘর তালাবদ্ধ রাখেননি।

তবে শ্যামপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৭৫) বলেন, ‘আমাদের আশ্রয়ণের সাতটি টিউবওয়েলের তিনটি নষ্ট, ড্রেনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো, আশ্রয়ণের ভেতর ও বাইরে চলাচলের রাস্তা কাদা-মাটিতে একাকার। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। এসব কারণেও অনেকে সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও তাতে থাকতে চান না।’

অপরদিকে, তাড়াশ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বেশি ঘর বরাদ্দ পাওয়া দেশিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনার্থ বসাক বলেন, ‘ঘর বিক্রি, ঘরে না থাকা বিষয়গুলো আমাদের অনেকেই জানান। তবে লিখিতভাবে কেউ জানান না।’

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘ঘর বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বিষয় জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর