প্রকাশিত:
১২ জুলাই ২০২৫, ১৭:০২
একটা সময় ডায়াবেটিসকে বয়স্কদের রোগ বলে জানত সবাই। কিন্তু এই সময়ে এসে সেই ধারণা বদলে গেছে। চিকিৎসা পরিভাষায় ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে পরিচিত এই ব্যাধি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সবার ঘরে ঘরে। যেকোনো সময় যে কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশে বহু মানুষ জানেনই না যে তাদের ডায়াবেটিসে রয়েছে। তাই রোগ ধরতে এবং চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায়। ফলে জটিলতা বাড়ে। আর এটি এমন এক রোগ, যার প্রভাবে হৃদযন্ত্র, কিডনি, চোখের স্নায়ুসহ প্রায় প্রতিটি অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধীরে ধীরে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডায়াবেটিস এখন ‘গ্লোবাল এপিডেমিক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সময় থাকতে রোগনির্ণয় করা এবং চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। ডায়াবেটিস প্রথম দিকে অনেক সময় শরীরের এমন একটি জায়গায় আক্রমণ করে, যাকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। আর সেটি হচ্ছে পা।
কেন পায়ে প্রভাব ফেলে ডায়াবেটিস
শরীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যাওয়া-ই হচ্ছে ডায়াবেটিস। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললে তা স্নায়ু ও রক্তনালিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরের সবচেয়ে দূরবর্তী বা প্রান্তিক অংশ হলো পা। তাই এই অঙ্গটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে ‘ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি’।
সময়মতো ধরা না পড়লে পরিণতি হতে পারে গুরুতর। এর ফলে আঙুল পচে যাওয়া, ঘা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেওয়া, এমনকি অঙ্গচ্ছেদ পর্যন্ত করতে হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়
অসাড়তা ও চিমটি কাটার মতো অনুভূতি : পায়ের পাতা আচমকা অবশ লাগা, মাঝে মাঝেই চিমটি কাটার মতো ঝিনঝিনে অনুভূতি হওয়ার মতো উপসর্গ স্নায়ুপ্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ।
জ্বালাভাব ও ব্যথা : অনেক সময় রাতে পা জ্বালা করে। বিশেষ করে পায়ের তালুতে আগুন লাগার মতো অনুভূতি হয়। রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে তার প্রভাবে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা থেকে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
পায়ের ত্বকে পরিবর্তন : পায়ের ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যাওয়া, পায়ের লোম পড়ে যাওয়া, এমনকি পায়ের চামড়ায় রঙের তারতম্য হওয়া ডায়াবেটিসের লক্ষণ। মূলত রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার কারণে এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
জখম সারতে দেরি হওয়া : পায়ের খুব সামান্য ছোট্ট কাটাছেঁড়া যদি দীর্ঘদিন কাঁচা থাকে বা সহজে না শুকায়, তাহলে অবিলম্বে সতর্ক হোন। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এবং ক্ষত কিছুতেই সারতে চায় না। একে ডায়াবেটিক ফুট বলে।
হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা ভারী লাগা : সাধারণত হাঁটাচলার সময় পায়ে ব্যথা হওয়া কিংবা পা ভারী লাগাকে আমরা ক্লান্তি বলে চালিয়ে দিই। কিন্তু এটি ডায়াবেটিক পারিফেরাল আর্টারি ডিজিজের পূর্ব লক্ষণ।
পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া : রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে পা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগে। বিশেষ করে এক পা অপরটির তুলনায় বেশি ঠাণ্ডা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কিভাবে রক্ষা পাবেন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করান।
নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন। দৈনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, পরিষ্কার মোজা পরুন। কখনো খালি পায়ে হাঁটবেন না, এমনকি ঘরেও না, চাইলে নরম জুতা ব্যবহার করতে পারেন। পায়ে সামান্য কেটে গেলেই বা ঘা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মন্তব্য করুন: