প্রকাশিত:
৫ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৭
বিশ্বের সব ফোনের মিলিত বার্তার চেয়েও বেশি বার্তা আদান-প্রদান করে আমাদের মস্তিষ্ক। একইভাবে একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে, সজাগ ও প্রাণবন্ত রাখতে হৃৎপিণ্ড বা হার্ট প্রতিদিন প্রায় ১,০০,০০০ বার স্পন্দিত হয়। তাই হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আজকের জীবনযাত্রায় আমরা প্রায়শই এদের ওপর চাপ সৃষ্টি করি।
অলসতা থেকে শুরু করে খারাপ খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত সবই অঙ্গগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যেই এর সমাধান নিহিত। হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে এরকম ৭টি বিজ্ঞানভিত্তিক টিপস নিচে দেওয়া হলো :
সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক উভয়ের জন্যই সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফল, সবজি, আস্ত শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন এবং জলপাই তেলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি হার্টের জন্য উপকারী।
এসব খাদ্য হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। রক্তনালী পরিষ্কার রাখতে এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোকে তীক্ষ্ণ রাখতে প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট সীমিত করা উচিত।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করতে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়ামের লক্ষ্য রাখুন।
২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কার্যকলাপ অল্প পরিমাণে করাও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম মানে জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো নয়। সিঁড়ি ব্যবহার করা বা হাঁটার মতো ছোট ছোট কার্যকলাপও এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
তামাক ত্যাগ করুন ধূমপান হার্ট বা মস্তিষ্কের কোনো উপকার করে না। বরং এটি স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
তামাক রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। তামাক ত্যাগ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের উন্নতি হয়। এমনকি ভ্যাপিং, যা প্রায়শই একটি নিরাপদ বিকল্প হিসাবে বাজারজাত করা হয় তা নিকোটিনের কারণে রক্তচাপের ওপর ঝুঁকি তৈরি করে। ভ্যাপিং প্রাপ্তবয়স্কদের ধূমপান ছাড়ার একটি উপায়। এটি অ-ধূমপায়ীদের, বিশেষ করে শিশু এবং তরুণদের জন্য নয়।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখুন। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খারাপ ঘুম উচ্চ রক্তচাপ এবং জ্ঞানীয় অবনতির ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুমের একটি নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখুন। ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম সীমিত করা, ঘুমানোর অন্তত ২ বা ৩ ঘণ্টা আগে কফি এড়িয়ে চলা এবং একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি ধমনীকে বন্ধ করে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি স্মৃতিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। খাদ্য, ব্যায়াম বা প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখা যায়। নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে এগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি এটি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও কম সোডিয়াম-যুক্ত খাদ্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হলে এটি রক্তনালী ও স্নায়ুর জন্য ক্ষতিকর। এটি হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক উভয়েরই ক্ষতি করতে পারে।
মন্তব্য করুন: