প্রকাশিত:
২ জুলাই ২০২৫, ১৩:২৬
‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ফাহিম বয়াতী নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় বখাটে শাকিল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) পড়ন্ত বিকেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বর্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শানু নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী নিহত ফাহিম বয়াতী বাউফল উপজেলার নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।
তার বাবা আহত মো. জাকির বয়াতী স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসা করেন। ভুক্তভোগীরা নওমালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ভাঙা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ছিল। ভুক্তভোগী ফাহিম সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরেন।
বিকেলে ধলু ফকিরের বাজারে বাবার কাছে যাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় বখাটে শাকিল তাকে আক্রমণ করে। পরে তাদের অভিভাবকরা ঘটনাস্থলে আসেন। শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা ফাহিম ও তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পুলিশ জানায়, পায়ের মূল রগ কেটে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন পরীক্ষার্থী ফাহিম।
ফাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জাকির বয়াতীকে পটুয়াখালী মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল, তবে জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলা নেই। ঘটনার উৎপত্তিস্থল গলাচিপা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে দশমিনা সীমানায়। কিন্তু তারা উভয় প্রতিবেশী ও বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।
বাউফল থানার ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্তকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভোগী ফাহিম। এনিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পরিবারের সদস্য ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে ফের কথা-কাটাকাটি হলে শাকিল ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগী বাবা-ছেলেকে একাধিক আঘাত করেন। এতে ফাহিম নিহত হয়েছেন। তার বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় দশমিনা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন। জড়িত মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন: