শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

সরকারি সেবায় ৩১ শতাংশ নাগরিক দুর্নীতির শিকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৫, ১৮:০৩

সরকারি সেবায় ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৮.৬২ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২২.৭১ শতাংশ। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বিআরটিএ (৬৩.২৯%), আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (৬১.৯৪%), পাসপোর্ট অফিস (৫৭.৪৫%) এবং ভূমি অফিস (৫৪.৯২%)।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে এই সার্ভে প্রকাশ করে বিবিএস।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর ১৬ নম্বর অভিষ্টের ছয়টি সূচক মূল্যায়নে এই জরিপ পরিচালিত হয়। দেশের ৬৪টি জেলার ১ হাজার ৯২০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) থেকে ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানায় সাক্ষাৎকার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে সংগৃহীত এই তথ্য দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধ, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচার ও বৈষম্য বিষয়ে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।

নিরাপত্তাবোধে আস্থার প্রবণতা

জরিপ অনুযায়ী, ৮৪.৮১% নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করেন। তবে এই নিরাপত্তাবোধে স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য দেখা যায়: পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ৮৯.৫৩% হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৮০.৬৭%। শহর ও গ্রামভেদেও কিছু পার্থক্য রয়েছে—শহরে ৮৩.৭৫% ও গ্রামে ৮৫.৩০% নাগরিক নিরাপদ বোধ করেন। অপরদিকে, সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার ৯২.৫৪%, যা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৯১.৮২% ও ৯৩.৩৫%।

মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা

মাত্র ২৭.২৪% নাগরিক মনে করেন তারা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। এই হার পুরুষদের মধ্যে ৩১.৮৬%, অথচ নারীদের মধ্যে তা ২৩.০২%—একটি স্পষ্ট লিঙ্গবৈষম্যের চিত্র। পাশাপাশি ২১.৯৯% নাগরিক বিশ্বাস করেন যে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নাগরিক সন্তুষ্টি

গত এক বছরে ৪৭.১২% নাগরিক অন্তত একবার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২.৭২% স্বাস্থ্যসেবাকে সহজপ্রাপ্য এবং ৮৯.৩৪% সেবার ব্যয়কে গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

তবে সেবার মান, স্বাস্থ্যকর্মীদের সময় প্রদান ও আচরণে সন্তুষ্টির হার যথাক্রমে ৬৫.০৭%, ৬৩.১৩% ও ৬৩.১৯%—যা উন্নয়নের সুযোগ নির্দেশ করে।
সরকারি শিক্ষায় সন্তুষ্টি ও প্রবেশাধিকারে ইতিবাচক চিত্র

৪০.৯৩% নাগরিক জানান, তাদের অন্তত একটি শিশু সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক স্তরে ৯৬.৪৬% নাগরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজে প্রবেশের কথা বলেন, এবং ৯২.৬৬% শিক্ষাব্যয় সামর্থ্যের মধ্যে বলে উল্লেখ করেন। মাধ্যমিকে এই হার কিছুটা কম হলেও এখনো যথেষ্ট ইতিবাচক (৮২.২০% ও ৮০.৮৬%)। মানসম্পন্ন শিক্ষা বিষয়ে সন্তুষ্টির হার প্রাথমিক স্তরে ৬৭.৯৩% এবং মাধ্যমিকে ৭১.৮৬%।

অন্যান্য সরকারি সেবায় প্রাপ্তিযোগ্যতা ভালো, মানে ঘাটতি

পরিচয়পত্র ও নাগরিক নিবন্ধনের মতো সেবায় ৭৮.১২% নাগরিক প্রাপ্তিযোগ্যতায় সন্তুষ্ট এবং ৮৬.২৮% ব্যয়কে সামর্থ্যের মধ্যে মনে করেন। তবে কার্যকর সেবা প্রক্রিয়া, সময়মতো সেবা ও সম-আচরণে সন্তুষ্টির হার যথাক্রমে ৬২.৬০%, ৫১.২৮% ও ৫৬.২৬%—যা মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার

গত দুই বছরে ১৬.১৬% নাগরিক কোনো না কোনো বিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৩.৬০% নাগরিক বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে ৪১.৩৪% আনুষ্ঠানিক (আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) এবং ৬৮.৯৬% অনানুষ্ঠানিক (কমিউনিটি নেতা, আইনজীবী) পন্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন।

বৈষম্য ও হয়রানির শিকার নাগরিক এক-পঞ্চমাংশ

গত এক বছরে ১৯.৩১% নাগরিক কোনো না কোনো বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। শহরাঞ্চলে (২২.০১%) এই হার গ্রামাঞ্চলের (১৮.০৭%) চেয়ে বেশি। আর্থ-সামাজিক (৬.৮২%) এবং লিঙ্গভিত্তিক (৪.৪৭%) বৈষম্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বৈষম্যের স্থান হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পরিবার (৪৮.৪৪%), গণপরিবহন বা উন্মুক্ত স্থান (৩১.৩০%) এবং কর্মস্থল (২৫.৯৭%)। কিন্তু মাত্র ৫.৩৫% ভুক্তভোগী তাদের অভিজ্ঞতা রিপোর্ট করেছেন।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সিপিএস ২০২৫-এর ফলাফল এসডিজি ১৬-এর ৬টি সূচকে দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে। একইসঙ্গে এই তথ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। জাতিসংঘের গ্লোবাল কাস্টোডিয়ান প্রতিষ্ঠানসমূহ ইউএনডিপি, ইউএনওডিসি ও ওএইচসিএইচআর-এর নির্দেশনা অনুযায়ী জরিপের নকশা, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও মতামতের মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর