শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ২ জন নিহত
  • ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত
  • রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা
  • বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দুপুরে আড়াইটায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
  • যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমান ধ্বংস
  • দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : প্রতিমন্ত্রী
  • চাঁদপুরে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
  • ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্টারমার
  • রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি

ঘুম ভেঙেছে বিশাল এক ব্ল্যাকহোলের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২ জুন ২০২৫, ১২:২৪

প্রায় দুই দশক ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা একটি বিশাল আকারের ব্ল্যাকহোল হঠাৎ করে জেগে ওঠার বিরল দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এটাই ইতিহাসে প্রথমবার, যখন একটি সুপ্ত ব্ল্যাকহোলকে সক্রিয় অবস্থায় রূপান্তরিত হতে রিয়েল-টাইমে দেখা গেল।

জার্মানির জার্মান ইলেকট্রন সিনক্রোট্রন রিসার্চ সেন্টারের (DESY) জ্যোতির্বিজ্ঞানী পাউলা সানচেজ সায়েজ বলেন,

"সদা শান্ত ও নিষ্ক্রিয় বলে বিবেচিত গ্যালাক্সিটি হঠাৎ করেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আলো ছড়াতে শুরু করে কেন্দ্রবিন্দু। এমন নাটকীয় উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ঘটনা আমরা এর আগে কখনো দেখিনি। এটা একটি ব্ল্যাকহোলের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে সক্রিয় অবস্থায় রূপান্তরের প্রথম সরাসরি নজরদারির ঘটনা।"

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মহাজাগতিক ঘটনা ঘটেছে এসডিএসএস ১৩৩৫+০৭২৮ নামের একটি গ্যালাক্সিতে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে ভারগো তারকামণ্ডলে অবস্থিত।

এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল, যার ভর সূর্যের চেয়ে ১০ লাখ গুণ বেশি।

প্রথম আলোর ঝলকানি লক্ষ্য করা যায় ২০১৯ সালের শেষের দিকে। এরপর গ্যালাক্সিটি অতিবেগুনি, অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তীব্র আলো ছড়াতে থাকে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে এক্স-রে বিকিরণও শনাক্ত করা হয়।

আরেক বিজ্ঞানী ক্লাউডিও রিকি বলেন,

"এ ধরনের ব্ল্যাকহোল সাধারণত সুপ্ত ও অদৃশ্য অবস্থায় থাকে। কিন্তু এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করছে, তারা হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, যা আমাদের মহাবিশ্ব ও কৃষ্ণগহ্বরের আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।"

বিজ্ঞানীদের মতে, ব্ল্যাকহোলটির চারপাশে প্রচুর গ্যাস জমা হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে কৃষ্ণগহ্বরের আকর্ষণে ভেঙে পড়ে তার মধ্যে চলে যাচ্ছে। এতে ব্ল্যাকহোলটি একটি সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস (AGN) এ পরিণত হয়, যার ফলে তীব্র বিকিরণ ও আলো নির্গত হচ্ছে।

এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ব্ল্যাকহোল কীভাবে বেড়ে ওঠে, কীভাবে গ্যালাক্সি বিবর্তিত হয়, এই বিষয়ে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছে।

মহাবিশ্বের নিঃশব্দ গভীরতায় যে অজস্র রহস্য লুকিয়ে আছে, তার মধ্যে এই ঘটনাটি একটি যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ। ব্ল্যাকহোল নিয়ে আমাদের জ্ঞানকে এগিয়ে নিতে এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর