প্রকাশিত:
২৩ মার্চ ২০২৫, ১৩:৫১
বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল ম্যাচ নিয়ে আয়োজকরা কঠোর দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন। আগামী ২৫ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। সেই ম্যাচের আগে যতটা সতর্ক থাকা যায় তার চেয়েও বেশি নজর রাখা হচ্ছে স্টেডিয়ামে। জওহরলাল নেহেরু স্পোর্টস কমপ্লেকসের মাঠে খেলা হবে। সেখানে এমনভাবে কড়াকড়ি করা হয়েছে যে কেউ যেন উঁকি দিতেও না পারে। স্টেডিয়ামের সকল নিরাপত্তাকর্মীর একই কথা, 'প্লিজ এখানে আসবেন না।'
গতকাল সকাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামের গেট খেলা ছিল, যাওয়া-আসা করা গেছে। আয়োজকদের কানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশিরা মাঠ দেখতে এসেছেন, ছবি তুলছেন। সঙ্গে সঙ্গে পালটা খবরে কড়া সতর্কবার্তা এসেছে, কোনোভাবেই যেন মেইন গেট খোলা না হয়। মুহূর্তেই স্টেডিয়ামে থাকা সব কর্মীর ওপর নির্দেশনা। তারাও কঠিন শব্দে কথা বলে সরিয়ে দিচ্ছেন।
ভারতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে জওহরলাল স্টেডিয়ামে। কোনো ভাবেই যেন পরিকল্পনা ফাঁস না হয়ে যায়, সেই আতঙ্ক কাজ করছে। গতকাল সন্ধ্যায় ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে অনুশীলন করেছে। সেখানেও ছিল ক্লোজড ডোর অনুশীলন। ভারতীয় সাংবাদিকরা এসেছিলেন। তারা বাইরে বসে সময় কাটিয়েছেন।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরে লড়াই চলছে বেশি। গতকালও বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হয়নি বলে মনে করছে বাংলাদেশ। পরশু বিকালে নেহু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুশীলন করেছিলেন জামাল ভুঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা। সেই মাঠ ভালো ছিল না। মাঠ নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলাদেশে শিবিরে।
তারা কোনোভাবেই সেখানে দ্বিতীয়বার অনুশীলন করতে চায়নি। বাংলাদেশকে অন্য কোনো মাঠে অনুশীলনের কথা জানিয়ে রেখেছিল। সারা দিন ধরে মাঠ নিয়ে নানা দোলাচলে ভুগেছে ফুটবল। একবার বলা হয়েছিল এই মাঠে আরেকবার অন্য মাঠে। ফুটবলার সাদ উদ্দিন, হৃদয়রা জানিয়েছেন তারা একবার অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে শোনেন বিকালে অনুশীলন হচ্ছে না। ৬টায় অনুশীলন হবে। পরে আবার জানানো হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুশীলন হবে।
দলের ম্যানেজার আমের খানের দাবি নেহু স্টেডিয়ামে দুপুর বেলা ভারত অনুশীলন করবে। প্রথমে ভারত অনুশীলন করবে, আর বিকালে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ অনুশীলন করবে। কিন্তু বাংলাদেশ নির্ধারণ করেছে নেহুর মাঠে অনুশীলন করে কোনো লাভ নেই। মাঠ ভালো না। কিন্তু বাংলাদেশকে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন থেকে জানানো হয়েছিল নেহু মাঠ ছাড়া মাঠ নেই। তিনি বলেন, 'আজকে (গতকাল) সকালে এই মাঠ কনফার্ম করে।'
জওহরলাল নেহরু স্পোর্টস কমপ্লেকস স্টেডিয়ামে ঢোকার পথেই একটি মাঠ রয়েছে। ফ্লাড লাইট আছে। সেটি টার্ফেরে মাঠ। বিকালে জানিয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেখানে অনুশীলন করা যাবে। তবে পেমেন্ট দিতে হবে। ঢাকায় বাফুফের অফিস থেকে কনফার্ম করার পর তারা মাঠ দিয়েছে। এর জন্য মাঠের ভাড়া এবং ফ্লাড লাইটের ভাড়াও দিতে হবে।
ভারত স্বাগতিক। তারা চাইলে অতিথি দলকে সব ভাবে সহযোগিতা দিতে পারে। তবে না দেওয়াটাও অন্যায় নয়। এটাও ঠিক যে স্বাগতিক দেশই অতিথি দলের অনুশীলনের জন্য ভালো মাঠ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে পারে। বাংলাদেশ আগে-ভাগে শিলং গিয়েছে সেটি তাদের দায়িত্ব নিয়ে। অফিসিয়াল নিয়ম অনুসারে আজ থেকে সব কিছু পাবে বাংলাদেশ।
ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে ২৫ মার্চ। আর দুই দিন হাতে রয়েছে। এরই মধ্যে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরে চলছে লড়াই। নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে ফুটবলার সাদ উদ্দিন এবং হৃদয়ের কথা হচ্ছে আমরা সবকিছু মেনে নিয়ে নিজেদেরকে প্রস্তুত করছি।
অনুশীলন শুরু হওয়ার আগে এই দুজনের পর সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও বলেছেন, 'আমরা আগে থেকে জানি ভারতে এলে এমন অসুবিধা হতে পারে। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখছি। আমরা যেন মাঠের কাজটা ঠিকঠাক মতো করতে পারি।'
মন্তব্য করুন: