প্রকাশিত:
১৩ মার্চ ২০২৫, ১৭:৪১
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক উত্তপ্ত বাক—বিতন্ডার মধ্য দিয়ে ভন্ডুল হয়ে গেলে, জেলেনস্কি এবং তার সফরসঙ্গীদের দ্রুত হোয়াইট হাউজ ত্যাগের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। পুরো ঘটনাই লাইভ টিভিতে বিশ্ববাসী দেখে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লন্ডনে গেলে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তাকে দশ ডাউনিং স্ট্রিটে অভ্যর্থনা জানান এবং ইউক্রেনকে যথাসাধ্য সাহায্যের আশ্বাস দেন। সেখান থেকে জেলেনস্কি যান ব্রাসেলসে। সেখানে ইউরোপীয় ও ন্যাটো নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। স্পষ্ট দেখা গেল পৃথিবীর শক্তিশালী ও উন্নত দেশগুলো মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।
এক সপ্তাহজুড়ে উন্নত বিশ্বের দুই মেরুকরণ ছিল পৃথিবী জুড়ে আলোচনার বিষয়। বৃহস্পতিবার ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি মনে করেন না, আমেরিকা যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে NATO তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এসোসিয়েটেড প্রেস ঐদিনই এই খবর দিয়ে বলে, ১১ সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ওয়াশিংটনে পেন্টাগন টেরোরিস্ট আক্রমণের শিকার হলে ন্যাটো ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। উল্লেখ্য স্নায়ুযুদ্ধকালে সোভিয়েট ইউনিয়নকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটো গঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উক্ত বক্তব্যের জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখো বলেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পরস্পরের সাথে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে ন্যাটো গঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি সদস্য দেশ নিয়ে। পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে সোভিয়েট হুমকিকে সামাল দেয়ার লক্ষ্যে ন্যাটো কাজ করার জন্য প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ হয়। বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য দেশের সংখ্যা ৩২।
শুক্রবার এসোসিয়েটেড প্রেস অপর এক খবরে জানায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সুপ্রিম লিডার ৮৫ বছর বয়সী আলি খামিনিকে লেখা একটি চিঠিতে অবিলম্বে নিউক্লিয়ার কর্মসূচী থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। তবে এপি জানাচ্ছে ইরানের খামিনির অফিস এ ধরনের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেনি। শুক্রবার ওভাল অফিসে রিপোর্টারদের সাথে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিঠির বিষয়টি পরিষ্কার না করলেও জানান, আমরা ইরানের সাথে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাাচ্ছি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জানতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা শিগগিরই একটি শান্তি চুক্তি করব।
এসোসিয়েটেড প্রেস বলছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কখনোই নিউক্লিয়ার সমরাস্ত্র তৈরি করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়ার পর এই চিঠির কথা জানা যায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স বিজনেস রিভিউতে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের উদ্দেশে বলেন, আমি একটি চিঠিতে (ইরানকে) জানিয়েছি, আশা করি আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা যদি মিলিটারি দিয়ে সমাধান করতে চাই, সেটা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা।
এপি বলছে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফেরার পর তার প্রশাসন বলে আসছে ইরানকে অবশ্যই নিউক্লিয়ার উইপন পেতে দেয়া যাবে না।
বিবিসি বলছে, বর্তমানে চীনের সাথে আমেরিকার লড়াই চলছে ট্রেড নিয়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পণ্যে অতিরিক্ত ১০% ট্যারিফ আরোপের ফলে সে দেশের বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে।
বিবিসি বলছে, গত বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র দেয়া বক্তৃতায় চীনের পণ্যের প্রতি বিশ্ববাসীর আকর্ষণ আরো বাড়ানোর জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট শি তার দেশের মিলিটারিকে যে কোনো যুদ্ধের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। বিবিসি আরো বলছে, এবছর বেইজিং তাদের মিলিটারি ব্যয় ৭% এরও বেশি বাড়িয়েছে।
পৃথিবীর বৃহৎ, শক্তিশালী ও ধনী দেশগুলোর পরস্পরের দূরত্ব বৃদ্ধি, পরস্পরকে অবিশ্বাস, ব্যবসার মাধ্যমে ঘায়েল করার এবং বিভিন্ন দেশের সাথে অন্য দেশের জোট তৈরির অলিখিত কথাবার্তায় প্রত্যেকটি প্রতিবেদনে অনিশ্চয়তার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা কি পৃথিবীকে ভয়াবহ কোনো অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ছুঁড়ে ফেলবে?
মন্তব্য করুন: