প্রকাশিত:
১৩ মার্চ ২০২৫, ১৭:২৫
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি-জ্বর লেগেই থাকে। বিশেষ করে বসন্তকালে নানা রোগের প্রকোপ বাড়ে। তবে এই মৌসুমে যদি একটু সতর্ক থাকা যায়, তাহলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব। অনেকেই এই সময় সুস্থ থাকতে নিমপাতা খেতে বলেন। এবার টাইমস ইব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে নিমপাতা সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে।
নিমপাতার উপকারিতা
বিশেষজ্ঞরা জানান আয়ুর্বেদে ওষুধ হিসেবে নিমপাতার ব্যবহার বহু পুরোনো। শুধু পাতা নয়, নিমগাছের প্রতিটি অংশই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অনেকেই নিমপাতা বেটে খান বা নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজার অভ্যাস করেন। এতে শরীরের উপকার হয়। তবে নিয়ম মেনে খেলে নিমপাতা শরীরকে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।
রোগের ঝুঁকি কমায়
বসন্তের সময়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সহজেই সংক্রমণের শিকার হতে হয়। কিন্তু নিয়মিত নিমপাতা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস, সিওপিডির মতো রোগের ঝুঁকি কমে।
সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিমপাতা অত্যন্ত কার্যকরী। পুষ্টিবিদদের মতে, মাত্র এক চামচ নিমপাতার রস খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সুস্থ ত্বক
যাদের ব্রণের সমস্যা রইয়েছে আতদের জন্য নিমপাতা দারুণ উপকারী। কারণ নিমপাতার খাওয়া কারণ নিমের নির্যাস রক্তে টক্সিক উপদান দূর করে। মার্চে গরমের প্রভাব শুরু তাই ত্বকে নানান সমস্যা হয়।যেমন ফুসকুড়ি, শুষ্কতা, চুলকানি ইত্যাদির কারণ হতে পারে। নিমপাতা ত্বকের এই ধরনের সমস্যার জন্য দুর্দান্ত কাজ করে।
শরীরকে টক্সিন মুক্ত রাখে
নিমপাতার মধ্যে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে। নিয়মিত নিমপাতা খেলে লিভার পরিষ্কার থাকে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে যায়। বিশেষ করে, পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে নিমপাতা।
ব্যথা ও প্রদাহ কমায়
নিমপাতার মধ্যে থাকা ‘লিমোনয়েড’ যৌগ প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমায়, যা জয়েন্ট পেইন বা বাতের সমস্যায় উপকারী হতে পারে।
যদিও নিমপাতা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে কিডনির সমস্যা থাকলে এটি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। এছাড়া, যদি কারও নিমপাতার প্রতি অ্যালার্জি থাকে, তাদেরও এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
মন্তব্য করুন: