প্রকাশিত:
১১ মার্চ ২০২৫, ১৪:০৯
শীতে শেষে গরম প্রায় এসে গেছে। আর এই সময়ে কড়া রোদ থেকে বাঁচতে ঘরোয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেন অনেকেই। এই সময় শীতকালের মতো অনেক বেশি সবুজ শাক-সবজি পাওয়া না গেলেও বাজারে দেখা যায় নানা নতুন সবজি। আর এই সিজনে মাছ-মাংসের চেয়েও সাদামাটা সবজি খাওয়ার অভ্যাস বাড়ে।
তেমনই একটি শাক বথুয়া। অনেক অজানা গুণ রয়েছে এই শাকের। তবে জানলে অবাক হবেন যে এত পুষ্টির ভাণ্ডার বথুয়া শাক বা বেথো শাক কিন্তু অনেকের জন্য চরম ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে এই শাক খেলে পাচনতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।
এ ছাড়া ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন বথুয়া শাক বেশি খেলে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিক রোগীরা তাদের খাদ্যতালিকায় বথুয়া পাতা যোগ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আবার লিভারের জন্যও এই শাক উপকারী।
তবে বেশি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে শরীর ও স্বাস্থ্যের। বিশেষ করে ৪ ধরনের মানুষের বেথো শাক থেকে দূরে থাকা ভালো।
হেলদি লিফ ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বথুয়ার শাক খুবই পুষ্টিকর। এর প্রভাবও গরম। এটি ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম ইত্যাদি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
এটি খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে। কিন্তু যদি এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে এটি কিছু ক্ষতিও করতে পারে।
বথুয়া শাকের ক্ষতিকর দিক
বথুয়া উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণে অক্সালিক এসিড থাকে। এই এসিড যদি অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করে তাহলে এটি ক্যালসিয়ামের পরিমাণ হ্রাস করে। যদি আপনার ইতোমধ্যেই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকে তাহলে এই শাক থেকে দূরে থাকবেন।
বথুয়ার স্বভাব গরম, তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে এটি গ্রহণ করলে গর্ভপাতও হতে পারে। এই গাছের বীজে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা এর জন্য দায়ী হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গর্ভবতী নারীদের এটি খুব সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
অতিরিক্ত বথুয়া খাওয়ার ফলে পেটের সমস্যাও হতে পারে। উচ্চ ফাইবারের কারণে এটি ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি আপনি এটি সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করেন তবে উপকারিতা আরো বেশি হবে।
এই শাক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করবে এবং পেট পরিষ্কার থাকবে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হবে না। যদি আপনার ডায়রিয়া হয় তাহলে এই সবুজ পাতা খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
বথুয়াগাছের ফুল পরাগ উৎপন্ন করে, যা কিছু কারো কারো অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এমনকি খড় জ্বরের মতো অ্যালার্জিও হতে পারে। যাদের বথুয়াখাওয়ার প্রতি অ্যালার্জি আছে তাদের যে কোনোভাবেই এটি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
যদি বাথুয়ার শাক বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তবে তা উর্বরতার ওপর অনেকাংশে প্রভাব ফেলতে পারে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ এই দাবির সঙ্গে একমত যে এর উর্বরতা-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণে বথুয়াখাওয়া আরো উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি শুধু সচেতনতার উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছে। এখানে শুধু সাধারণ তথ্যগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। এই পরামর্শগুলো গ্রহণ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
মন্তব্য করুন: